মেট্রোরেল
বর্তমানে শুধুমাত্র ঢাকায় উড়ালপথে চালু হয়েছে মেট্রোরেল। 2026 সালের মধ্যে ঢাকার মেট্রোরেল ব্যবস্থায় পাতাল রেলও যুক্ত হবে। এছাড়া 2030 সালের মধ্যে ঢাকার কেন্দ্রে এবং আশেপাশে হেমায়েতপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
ঢাকার যানজটের ভোগান্তি কমাতে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প মেট্রোরেল ব্যবস্থা। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশর প্রথম মেট্রোরেল সেবা চালু হতে হয়েছে। উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন সিক্স এর সম্পূর্ণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় প্রথম ধাপে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো রেল সেবা চালু হয়েছে। বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ইলেকট্রিক ট্রেনে থাকবেনা কোন ধরনের কাগজের টিকেট।
সুপ্রিয় পাঠক, RANDOM SPEECH এর এই আর্টিকেলে কিভাবে ঢাকা মেট্রো রেলের টিকিট কাটতে হবে এবং মেট্রোরেলের বিধি নিষেধ সম্পর্কে আলোচনা করা হবে......
ঢাকা মেট্রোরেল
সর্বাধুনিক রেল ব্যবস্থায় ঢাকা মেট্রোরেল তৈরি করা হয়েছে। তাই অধিকাংশ যাত্রীর জন্যই এই ট্রেনে চড়াটা হবে সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞ্যতা। প্রতিটি মেট্রো রেল স্টেশনে ঢোকার পর প্রথমেই ঠিক এইরকম একটি মেশিন দেখা যাবে। মেট্রোরেলে যাত্রা করার আগে এখান থেকে ইলেকট্রনিক টিকেট কেটে ট্রেনে চড়তে হবে। এমআরটি পাস এবং রেপিড পাস ব্যবহার করে যাত্রীরা সহজে যাতায়াত করতে পারবে।
মেট্রোরেলের সবগুলো কামরা সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। বয়স্ক এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন নাগরিকদের জন্য স্টেশনে এবং মেয়েদের ভেতরে বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। যাত্রা সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য ট্রেনের ভেতরে থাকা স্ক্রিনে দেখতে পারবেন। কতক্ষনের মধ্যে ট্রেন পরবর্তী স্টেশনে পৌঁছবে সে সম্পর্কে এই স্ক্রিণে আগে থেকেই ধারণা দেয়া হবে।
মেট্রোরেলের টিকেট কাটার নিয়ম
টিকিট কাটার জন্য প্রথমেই আপনার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য নির্বাচন করতে হবে। এর পর স্ক্রিনে প্রদর্শিত টিকেটের মূল্য মেশিনের ভেতরে প্রবেশ করাতে হবে। ভাংতি টাকা না থাকলেও সমস্যা নেই, মেশিন থেকে আপনার প্রাপ্য বাকি টাকা ফেরত দেয়া হবে। শুরুতে মেট্রোরেল স্টেশনের কাউন্টার থেকে নির্দিষ্ট জামানত দিয়ে কিনতে হবে এমআরটি পাস। এটি সংগ্রহের পর নিয়মিত যাতায়াতের জন্য কাউন্টারের পাশাপাশি ‘টিকিট মেশিন’, মোবাইল ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমেও টপ-আপ করা যাবে। টিকেটের মূল্য পরিশোধ করা হলে মেশিন থেকে একটি ইলেকট্রনিক টিকেট বের হবে। টিকেটটি নিয়ে সরাসরি চলে যেতে হবে প্লাটফর্মে।
প্রতিটি প্লাটফর্মে প্রবেশের আগে এই ধরনের গেট থাকবে। এই গেটে ইলেকট্রনিক প্রদর্শন করলে আপনি খুলে যাবে। একটি টিকেট দিয়ে একজনের বেশি লোক এই গেট পার হতে পারবে না। ট্রেনে ওঠার জন্য প্রথমে লাইনে দাঁড়াতে হবে, এরপর কাঙ্খিত ট্রেনে উঠে যাত্রা শেষ করে একবার ব্যবহারযোগ্য ইলেকট্রনিক টিকেটটি বহির্গমন গেটে জমা দিতে হবে। এমআরটি পাস এবং রেপিড পাস ব্যবহার করবেন তারা শুধু গেটে তাদের পাস দেখিয়ে চলে যেতে পারবেন।
মেট্রোরেলে আপনার পরিশোধিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভ্রমণের কোন সুযোগ নেই। মনে করুন, আপনি উত্তরা সেন্টার স্টেশন থেকে মিরপুর-১০ স্টেশনের জন্য টিকেট কেটেছেন। কিন্তু ট্রেনে ওঠার পর ভাবলেন আপনি আগারগাঁও নামবেন। এক্ষেত্রে আপনার পরিশোধিত ভাড়ার অতিরিক্ত কয়েকটি স্টেশন ভ্রমণ করতে হবে। তখন আপনি আপনার ইলেকট্রনিক টিকেট টি গেটে জমা দিয়ে স্টেশন থেকে বের হতে পারবেন না।
এই পরিস্থিতিতে বহির্গমন গেটের পাশে থাকার টিকেট কাউন্টারে অতিরিক্ত ভ্রমণ করা দূরত্বের মূল্য পরিশোধ করে তারপর আপনি স্টেশন ত্যাগ করতে পারবেন। আর যারা এমআরটি পাস এবং রেপিড পাস ব্যবহার করবেন তাদের কোন বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবে না। বহির্গমনের সময় অতিরিক্ত ভ্রমণের সমপরিমাণ অর্থ তাদের এমআরটি পাস এবং রেপিড পাস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে রাখা হবে।
মেট্রোরেলে ভ্রমণের নিয়ম কানুন
মেট্রোরেল ব্যবহারের বেশকিছু সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে যেমন: মেট্রোরেল দেখার জন্য প্লাটফর্ম থেকে ঝুঁকবেন না। ট্রেনের দরজায় কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। এছাড়া মেট্রোরেল এর ভেতরের ময়লা ফেলা, ধূমপান করা, পানের পিক ফেলা বা থুথু ফেলা, খাবার খাওয়া, ভারী মালামাল পরিবহন করা, ফোনের লাউড স্পিকার ব্যবহার করা, পোষা প্রাণী বহন করা, অস্ত্র বহন করা, ফেরি করা এবং ভিক্ষা করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
মেট্রোরেলে আপনার পরিশোধিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভ্রমণের কোন সুযোগ নেই। মনে করুন, আপনি উত্তরা সেন্টার স্টেশন থেকে মিরপুর 10 স্টেশনের জন্য টিকেট কেটেছেন। কিন্তু ট্রেনে ওঠার পর ভাবলেন আপনি আগারগাঁও নামবেন। এক্ষেত্রে আপনার পরিশোধিত ভাড়ার অতিরিক্ত কয়েকটি স্টেশন ভ্রমণ করতে হবে। তখন আপনি আপনার ইলেকট্রনিক টিকেট টি গেটে জমা দিয়ে স্টেশন থেকে বের হতে পারবেন না।
এই পরিস্থিতিতে বহির্গমন/ বের হবার গেটের পাশে থাকার টিকেট কাউন্টারে অতিরিক্ত ভ্রমণ করা দূরত্বের মূল্য পরিশোধ করে তারপর আপনি স্টেশন ত্যাগ করতে পারবেন। আর যারা এমআরটি পাস এবং রেপিড পাস ব্যবহার করবেন তাদের কোন বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবে না। বহির্গমনের/ বের হবার সময় সময় অতিরিক্ত ভ্রমণের সমপরিমাণ অর্থ তাদের এমআরটি পাস এবং রেপিড পাস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে রাখা হবে।
মেট্রোরেলে ভাড়া কত?
গত ৮ সেপ্টেম্বর মেট্রোরেলের ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা অনুযায়ী, মেট্রোরেলে সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা। উত্তরা নর্থ স্টেশন (দিয়াবাড়ী) থেকে আগারগাঁওয়ের ভাড়া ৬০ টাকা। কমলাপুর পর্যন্ত ভাড়া ১০০ টাকা। মেশিনে সর্বনিম্ন ২০ টাকা আর সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা প্রবেশ করানো যাবে। স্মার্ট কার্ডে ভাড়া পরিশোধ করলে ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন যাত্রীরা। বিনা ভাড়ায় ভ্রমণ করতে পারবেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
মেট্রোরেল ভ্রমণে সর্তকতা
মেট্রোরেল ব্যবহারের বেশকিছু সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে যেমন: মেট্রোরেল দেখার জন্য প্লাটফর্ম থেকে ঝুঁকবেন না। ট্রেনের দরজায় কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। এছাড়া মেট্রোরেল এর ভেতরের ময়লা ফেলা, ধূমপান করা, পানের পিক ফেলা বা থুথু ফেলা, খাবার খাওয়া, ভারী মালামাল পরিবহন করা, ফোনের লাউড স্পিকার ব্যবহার করা, পোষা প্রাণী বহন করা, অস্ত্র বহন করা, ফেরি করা এবং ভিক্ষা করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
বর্তমানে শুধুমাত্র উড়ালপথে নির্মিত মেট্রোরেল চালু হচ্ছে। 2026 সালের মধ্যে ঢাকার মেট্রোরেল ব্যবস্থায় পাতাল রেলও যুক্ত হবে। এছাড়া 2030 সালের মধ্যে ঢাকার কেন্দ্রে এবং আশেপাশে হেমায়েতপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।