রাজাকার কি, কাকে বলে, কোথা থেকে, কীভাবে এবং কেন?

রাজাকার কোথা থেকে, কীভাবে, কেন?

বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রায় 50 বছর পরেও যে শব্দটি সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত সেটি হচ্ছে রাজাকার। বাংলাদেশের মানুষ রাজাকার শব্দটির সঙ্গে প্রথম পরিচিত 1971 সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়। তখন পাকিস্তানি বাহিনী তাদের সহায়তা করার জন্য রাজাকার বাহিনী গঠন করে।

সুপ্রিয় দর্শক, 
RANDOM SPEECH এর এই আর্টিকেলে আমরা জানবো রাজাকার কি, কাকে বলে, কোথা থেকে, কীভাবে এবং কেন? 

রাজাকার বাহিনী কিভাবে তৈরি হলো?

গবেষকরা বলছেন, রাজাকার বাহিনীর জন্ম 1971 সালে খুলনা খানজাহান আলী রোড এর একটি আনসার ক্যাম্পে এবং এখানে প্রায় 100 জন পাকিস্তানপন্থী ব্যক্তিকে নিয়ে রাজাকার বাহিনীর গোড়া পত্তন ঘটে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর নেতা একেএম ইউসুফ। যিনি পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর হয়েছিলেন এবং  1971 সালের জন্য গঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারের জন্য অভিযুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যু হয়েছে কারাগারে।

1971 সালের জুন মাসে রাজাকার আইন জারি করেন এবং এর মাধ্যমে রাজাকার সদস্যদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়।গবেষকরা বলছেন, কমবেশি রাজাকারের সংখ্যা তখন প্রায় 50 হাজারের মত। রাজাকার সদস্যরা বেতন পেতেন এবং তাদের তালিকা তখন থানায় লিপিবদ্ধ করা ছিল। 

রাজাকাররা শুরুর দিকে শান্তি কমিটির আওতায় থাকলেও পরবর্তীতে তাদের পৃথক করা হয়।1971 সালে পাকিস্তানী বাহিনীকে সহায়তার জন্য শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস, গঠন করা হয়েছিল। শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন মূলত রাজনৈতিক ব্যক্তি যেমন: তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর নেতা গোলাম আযম, যিনি পরবর্তীতে জামায়াত ইসলামের আমীর হয়েছিলেন। তাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল এবং মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল।

এছাড়া আলবদর বাহিনী গঠন করা হয়েছিল জামায়াত ইসলামের তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংগঠনের নেতা কর্মীদেরকে নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকরা বলেন, আল বদর বাহিনীর সদস্য সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ হাজারের মতো হবে। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী। যিনি পরবর্তীতে জামায়াতের আমীর হয়েছেন। নিজামীকেও 1971 সালের জন্য গঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

See also  আর্থিক বাজার কি? মুদ্রাবাজার (Money Market) কাকে বলে?

রাজাকারদের প্রধান কাজ ছিল?

রাজাকাররা মূলত পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে যুদ্ধে অংশ নিত এবং বিভিন্ন ভাবে তারা পাকিস্তানী বাহিনীকে সহায়তা করতো। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বের করত এবং তাদেরকে ধরে তারা পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দিতো এবং নারী ধর্ষণে সহায়তা করতো। অন্যদিকে আলবদর, আলশামস বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সহ নানা ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছে।